১০ টি সহজ উপায় ফাইবার থেকে ইনকাম করুন

১০ টি সহজ উপায় ফাইবার থেকে ইনকাম করুন

দিন যত যাচ্ছে মানুষ ক্রমশ ফ্রিল্যান্সিং এর প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো সহজেই এ খাত থেকে বেশি পরিমাণ আয় করা যায়।অন্যান্য কাজের থেকে খুব কম পরিশ্রম করে অনেক ভালো টাকা ইনকাম করা যায় এ কারণে মানুষ এ খাতকে বেছে নিচ্ছে। কিন্তু অনেকে ব্যর্থ হচ্ছে কারণ তারা কোন কাজ করবে এবং কোন কাজের চাহিদা বর্তমানে মার্কেটে রয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে পারে না এজন্য অনেকে ব্যর্থ হচ্ছে। আজকের এই আর্টিকেল আমি আপনাদের সাথে দশটি কাজ শেয়ার করবো যেগুলো বর্তমানে অনেক চাহিদা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে সে বিষয়গুলো আপনাদের ধারণা দিব।

Table of Contents

১/ প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি

বর্তমানে বেশিরভাগ কাজই অনলাইন মাধ্যম হয়ে থাকে এখন যেমন আপনার কয়েকদিন ধরে খেয়াল করবেন যে ই-কমার্স খাতের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ ই-কমার্স থেকে তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করে থাকে। ই-কমার্স ওয়েবসাইট এর এসব পণ্যের ছবি আপলোড করার জন্য বিভিন্ন প্রডাক্ট ফটোগ্রাফার এর প্রয়োজন হয়। আর এর চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এর প্রচুর পরিমাণ কাজ রয়েছে। তাই আপনি চাইলে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি করতে পারেন।

২/ আর্টিকেল টু ভিডিও

বর্তমানে কোন কিছুর প্রমোশনের জন্য লেখার চেয়েও আর্টিকেল টু ভিডিও আকারের যে সমস্ত পোস্ট করা হয় ওগুলো বেশি কার্যকরী হয়। আর্টিকেল টু ভিডিও আকারে যে সমস্ত পোস্ট করা হয় এগুলোর মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে 25 শতাংশের বেশি বিক্রি পাচ্ছে। ফাইবার কিংবা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আর্টিকেল টু ভিডিও এর প্রচুর পরিমাণ চাহিদা রয়েছে। আপনি চাইলে শুধুমাত্র আর্টিকেল টু ভিডিও তৈরি করা শিখে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস গুলোতে কাজ করতে পারেন।

৩/ গেম টেইলার

বর্তমান এই প্রযুক্তির যুগে গেমের চাহিদা অনেক বেশি। গেম খেলে না এমন মানুষ নেই বললেই চলে। বর্তমানে পাবজি এবং ফ্রী ফায়ার পুরো বিশ্ব কাঁপাচ্ছে তাদের অনলাইন গেম দিয়ে। তারা কিন্তু রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়নি। তারা তাদের গেমের জন্য গেম টেইলার তৈরি করে সেটা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে ইউটিউবে ছেড়েছে তারপর তারা ভাইরাল হয়েছে। বর্তমানে গেম টেইলারের অনেক চাহিদা রয়েছে। আপনি চাইলে শুধুমাত্র গেম টেইলার তৈরি করা শিখে কাজ করতে পারেন।

৪/ সাবটাইটেল এবং ক্যাপশন

বর্তমানে অনেক ছবি তৈরি করা হয় যেগুলোর বিগ বাজেটের ছবি হয়ে থাকে। কিন্তু শুরুতে এই ছবিগুলো একটা ভাষায় নির্মিত হয়। এসব ছবি প্রত্যেকটা ডিরেক্টর চাই বিভিন্ন দেশ চালানোর জন্য। বিভিন্ন দেশের চালানোর জন্য আপনার ছবিতে সাবটাইটেল এবং ক্যাপশন লাগাতে হয় যাতে বিভিন্ন দেশের মানুষ এটা বুঝতে পারে। এর জন্য প্রত্যেক ছবির পরিচালক সাবটাইটেল এবং ক্যাপশন তৈরি করার জন্য লোক হায়ার করে। আপনি চাইলে সাবটাইটেল এবং ক্যাপশন তৈরি করা শিখে এ কাজ করতে পারেন।

৫/ লিরিক এবং মিউজিক ভিডিও

বর্তমানে লিরিক এবং মিউজিক ভিডিও চাহিদা অনেক বেশি। মানুষ এখন লিরিক এবং মিউজিক ভিডিও শুনতে অনেক পছন্দ করে। এর জন্য প্রত্যেকটা প্রোডাকশন হাউজ কে তাদের গানের লিরিক এবং মিউজিক ভিডিও আলাদা ভাবে তৈরি করতে হয়। লিরিক এবং মিউজিক ভিডিও তৈরি করার জন্য তারা বিভিন্ন এক্সপার্ট লোক হায়ার করে থাকে। আপনি চাইলে লিরিক এবং মিউজিক ভিডিও তৈরি করা শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কাজ করতে পারেন।

৬/ থ্রিডি প্রডাক্ট এনিমেশন

বর্তমানে একটা পণ্যকে যত সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা যায় ততবেশি ঐ পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে যতগুলো ই-কমার্স কোম্পানি রয়েছে তারা এখন তাদের প্রতিটি প্রোডাক্ট থ্রিডি এনিমেশন মাধ্যমে উপস্থাপন করে যার ফলে বিক্রয় অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। ফাইবার কিংবা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে থ্রিডি প্রডাক্ট এনিমেশন নিয়ে অনেক কাজ রয়েছে। আপনি চাইলে থ্রিডি প্রডাক্ট এনিমেশনের কাজ করতে পারেন।

৭/ লোগো অ্যানিমেশন

বর্তমানের যুগ যত বেশি ডিজিটাল হচ্ছে মানুষ তত বেশী আধুনিক হচ্ছে। আগে কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য লোগো তৈরি করত কিন্তু বর্তমানে লোগো তৈরি না করে লোগো অ্যানিমেশন তৈরি করেছে। যাতে করে তাদের কোম্পানিজে আরো এটাক্টিভ লাগে। লোগো অ্যানিমেশন নিয়ে ফাইবার কিংবা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে প্রচুর পরিমান কাজ রয়েছে। আপনি চাইলে লোগো অ্যানিমেশনের কাজ করতে পারেন।

৮/ ভিডিও এডিটিং

ভিডিও এডিটিং এর চাহিদা বর্তমানে আকাশচুম্বী। যতদিন যাচ্ছে তত এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ এখন আর যেনো তেনো ভিডিও পছন্দ করেনা। ভিডিওর কোয়ালিটি যদি খারাপ হয় তাহলে ওই ভিডিওতে ভিউ খুবই কম হয়। এর জন্য যারা ভিডিও তৈরি করে তারা ভিডিও এডিটিং এর উপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই ভিডিও এডিটরের চাহিদা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি চাইলে ভিডিও এডিটিং শিখে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস কিংবা লোকাল মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারেন।

৯/ আনবক্সিং ভিডিও

অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা তাদের নতুন কোনো পণ্য বাজারে আসলে সেটা তারা প্রমোশনের জন্য কাউকে দিয়ে আনবক্সিং ভিডিও করায়। এর জন্য প্রত্যেকটা কোম্পানি কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে। আপনি যদি কথা বলাতে এক্সপার্ট হন তাহলে আনবক্সিং ভিডিও তৈরি করার কাজ করতে পারেন।

১০/ ই-কমার্স প্রোডাক্ট ভিডিও

বর্তমানে সারাবিশ্বে কয়েক লক্ষ এর বেশি ই-কমার্স কোম্পানি রয়েছে। যারা তাদের পণ্য বিক্রয়ের জন্য প্রোডাক্ট ভিডিও তৈরি করে। প্রডাক্ট ভিডিও তৈরি করার ফলে ওই পণ্যের বিক্রয় বেশি হয়।প্রোডাক্ট ভিডিও তৈরি করার জন্য তারা বিভিন্ন ভিডিও এক্সপার্ট হায়ার করে। আপনি চাইলে ই-কমার্স প্রোডাক্ট ভিডিও তৈরি করা কাজ করতে পারেন।

এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে ১০ টি কাজ শেয়ার করছি যেগুলোর মাধ্যমে আপনি ফাইবার কিংবা ফ্রীল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

Similar Posts